সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া নিউজ ডটকম।
প্রকাশিত: ২০/০৯/২০২৬ ১:৩৩ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে অর্ধকোটি টাকা বা তার বেশি মূল্যের নোহা ও টিআরএক্স গাড়ির সংখ্যা হঠাৎ বেড়েছে। এসব গাড়ির অনেকগুলোর মালিকানা ও অর্থের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইয়াবা কারবারের মাধ্যমে অল্প সময়ে বিত্তশালী হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ এসব গাড়ি কিনেছেন। আবার অনেক গাড়ি ব্যক্তিমালিকানার পরিবর্তে সমিতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছরে উখিয়া এলাকায় কয়েকশ’ নোহা ও টিআরএক্স গাড়ি নতুন করে চলাচলে যুক্ত হয়েছে। এসব গাড়ির অনেকগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। তবে বিপুল অর্থের এসব গাড়ির মালিকদের পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়। গাড়িগুলো বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন ও ভাড়ায় চলাচল করলেও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন গাড়ির মালিকদের মধ্যে এমন কয়েকজন রয়েছেন, যাদের অতীতে দৃশ্যমান বড় কোনো ব্যবসা বা উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস ছিল না। কেউ পান দোকান, কেউ রিকশা বা টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে তাদের কেউ কেউ একাধিক গাড়ি ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব সম্পদের অর্থের উৎস কী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, কিছু নোহা ও টিআরএক্স গাড়িতে ইয়াবা পরিবহনের জন্য গোপন চেম্বার বা বিশেষ ‘পয়েন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক কিছু অভিযানে নোহা ও টিআরএক্স গাড়ি থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। তবে গাড়ি জব্দ ও চালক কিংবা বাহক আটক হলেও প্রকৃত মালিক বা নেপথ্যের অর্থদাতারা অনেক ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু ইয়াবার চালান ও বাহক আটকের মধ্যে অভিযান সীমাবদ্ধ রাখলে মাদক ব্যবসার মূল উৎস বন্ধ করা কঠিন।
যাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাদকের চালান আসছে এবং যারা অল্প সময়ে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎসও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাদের মতে, উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক কারবারে কারা অর্থ বিনিয়োগ করছে, কারা পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং কারা এসবের পেছনে রয়েছে, তা চিহ্নিত করা জরুরি। একইসঙ্গে সন্দেহজনকভাবে অল্প সময়ে একাধিক দামি গাড়ির মালিক হওয়া ব্যক্তিদের সম্পদের উৎস যাচাই করলে মাদক কারবারের অর্থের গতিপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনের বিষয়ে তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে জৈব সার

কক্সবাজারে পর্যটনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে জৈব সার। হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় রান্নার পরিত্যক্ত ...

কক্সবাজার সৈকতে শাওয়ার, চেঞ্জিং রুম ও রাতের আলোর পরিকল্পনা

পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা বাড়াতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ফ্রেশ ওয়াটার শাওয়ার, চেঞ্জিং রুম, লকার, ক্যাফে, পর্যটক ...
Single Page Footer